হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুগিয়োনো এবং দেশটির গণপরামর্শ পরিষদ (MPR RI)-এর সভাপতি আহমাদ মুজানি মাশহাদ শহরে পৌঁছান। সেখানে তারা ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যিদ আব্বাস আরাকচি এবং ইরানের ইসলামি পরামর্শ পরিষদের (মজলিস) স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের খবর ইন্দোনেশিয়ায় অবস্থিত ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের দূতাবাসের এক্স (X) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের @iraninindonesia অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করা হয়। ওই পোস্টে জানানো হয়, সুগিয়োনো সাক্ষাৎকালে সম্প্রতি সমাহিত হওয়া ইরানের শহীদ নেতা হজরত আয়াতুল্লাহ সাইয়্যিদ আলী খামেনেয়ীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
বার্তায় বলা হয়:
‘ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. সাইয়্যিদ আব্বাস আরাকচি মাশহাদে ইন্দোনেশিয়া প্রজাতন্ত্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুগিয়োনোর সঙ্গে সাক্ষাৎ ও আলোচনা করেছেন। এই বৈঠকে ইন্দোনেশীয় প্রতিনিধি দল ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের শহীদ নেতা হজরত আয়াতুল্লাহ সাইয়্যিদ আলী খামেনেয়ীর প্রতিও শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে।‘
অন্যদিকে, ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাতের খবর আহমাদ মুজানির ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট @ahmadmuzani2-এ প্রকাশ করা হয়।
মুজানি লিখেছেন:
‘আজ আমি পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুগিয়োনোকে সঙ্গে নিয়ে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের ইসলামি পরামর্শ পরিষদের স্পিকার ড. মোহাম্মদ বাকের কালিবাফের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছি। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের আলোচনাকারী প্রতিনিধিদলেরও সদস্য।‘
তিনি আরও বলেন:
‘আমরা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হজরত আয়াতুল্লাহ সাইয়্যিদ আলী খামেনেয়ীর শাহাদাত উপলক্ষে ইন্দোনেশিয়া সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছি। সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি এই সফর ১৯৫০ সাল থেকে প্রতিষ্ঠিত দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক অব্যাহত রাখার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করে।‘
ইন্দোনেশিয়ার প্রতিনিধি দলের আলোচনার মূল বিষয়সমূহ
ইন্দোনেশিয়ার গণপরামর্শ পরিষদের সভাপতি আহমাদ মুজানি ইরানের ইসলামি পরামর্শ পরিষদের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে হজরত আয়াতুল্লাহ সাইয়্যিদ আলী খামেনেয়ীর শাহাদাতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানান।
সমবেদনা প্রকাশের পাশাপাশি ইন্দোনেশীয় প্রতিনিধি দল নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর ওপরও গুরুত্বারোপ করে
১. ইন্দোনেশিয়া ও ইরান উভয়ই শান্তিতে বিশ্বাসী রাষ্ট্র। তাদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সমঝোতায় পৌঁছানোর একমাত্র কার্যকর উপায় হলো কূটনীতি।
২. ইন্দোনেশিয়ার জনগণ সব দেশের সঙ্গে সহযোগিতা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যাতে বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং দুই-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান (Two-State Solution)-এর ভিত্তিতে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য বাস্তবায়িত হয়।
৩. ইন্দোনেশিয়া ও ইরান সংসদীয় সহযোগিতা আরও জোরদার করার পাশাপাশি অর্থনীতি, জ্বালানি, শিক্ষা এবং পর্যটন খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে সম্মত হয়েছে।
আপনার কমেন্ট